আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে মার্কিন বাহিনী। টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়। যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত চলমান আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটনের এই ধারাবাহিক সামরিক পদক্ষেপ এ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সোমবার মার্কিন সেন্টার কমান্ডের (সেন্টকম) পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে এই হামলা শুরুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, হরমুজ প্রণালীসহ সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর সম্ভাব্য হামলা চালানোর সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের সামরিক শক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য স্তরে হ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত রাখা হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। এই নৌপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হিসেবে বিবেচিত। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান এই রুটে যাতায়াতকারী জাহাজের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের পরিপন্থী।
অন্য দিকে, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বহুমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সামরিক শক্তির এই প্রদর্শনকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের ওপর চরম চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই ধারাবাহিক হামলার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে কী ধরনের সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের জের ধরে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, অতীতে এই ধরনের যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বা সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তেহরান কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে এই আঞ্চলিক উত্তেজনা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ না নেয়।