সারাদেশ ডেস্ক
চাঁদপুর জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াছকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা শহরের উত্তর শ্রীরামদী এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন উত্তর শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা ফরিদা ইলিয়াছ দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিজ বাসায় অবস্থান নিচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকাল আনুমানিক ৮টায় জেলা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবিরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত দল এই অভিযান পরিচালনা করে এবং তাকে নিজ বাসভবন থেকে হেফাজতে নেয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানা রেকর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন বাদী হয়ে মামলাটি রুজু করেন। ফরিদা ইলিয়াছ ওই মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি। তিনি চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত। গত ২০২৪ সালে দেশব্যাপী সংগঠিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার বিরুদ্ধে আন্দোলনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের সংশ্লিষ্ট বিচারক মামলার নথিপত্র এবং জামিন আবেদন পর্যালোচনা করে শুনানির পর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং ফরিদা ইলিয়াছকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানায়, বিগত সরকারের পতনের পর চাঁদপুর জেলার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ সারির অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। ফরিদা ইলিয়াছও গত কয়েক মাস ধরে জনসম্মুখের আড়ালে ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সুনির্দিষ্ট মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এই ধরনের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।