অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) আওতাধীন বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নিরাপদ ও দ্রুত করতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এখন থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তে থাকা পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর যেকোনো শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে ঝামেলা ছাড়াই তাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে পারবেন। নিরবচ্ছিন্ন গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকরাও ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসে সহজে তাদের ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সামসুল হক সুফিয়ানী এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (আর্থিক মনিটরিং-উত্তরাঞ্চল) মো. মাসুদ পারভেজ। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিআরইবির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সদস্য (অর্থ) ও সরকারের যুগ্ম সচিব মিলিয়া শারমিন, নিয়ন্ত্রক (অর্থ ও হিসাব) মো. ইদ্রিস, বোর্ডের সচিব শারমিন মাহমুদ, পরিচালক (অর্থ) মো. জিয়া উদ্দিন এবং পরিচালক (অর্থ) হিমেল পাল।
অন্যদিকে, কমিউনিটি ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করেন ব্যাংকটির হেড অব করপোরেট ব্যাংকিং ও হেড অব বিজনেস (ব্রাঞ্চ) ড. মো. আরিফুল ইসলাম, চিফ ইনফরমেশন টেকনোলজি অফিসার মো. তানজীম মোর্শেদ ভূঁইয়া, কর্পোরেট ব্যাংকিং ডিভিশনের ইউনিট হেড সুজাত হক এবং চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম কাদির (এফসিএ)। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন হেড অব এডিসি অ্যান্ড হেড অব এমডি’স কো-অর্ডিনেশন টিম মামুন উর রহমান, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট টিমের তুহিনুল ইসলাম ও নিশিত কান্তি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বৃহৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। বর্তমানে সারাদেশে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি। শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় দেশের প্রতিটি গ্রাম ও দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ফলে গ্রাহক সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ গ্রাহকের বিল সংগ্রহের বিষয়টিও একটি বড় কর্মযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। আগে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংকে বা কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় ব্যয় করতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে বিল পরিশোধ করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তি ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার বিষয়ও পরিলক্ষিত হয়। এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের বিল পরিশোধ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং সহজলভ্য করার জন্যই বিআরইবি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দেশব্যাপী বিস্তৃত তাদের শাখা ও উপশাখার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষকেও ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসার কাজ করছে। নতুন এই চুক্তির ফলে কমিউনিটি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের বিল দেওয়া শুধু যে সময় বাঁচাবে তা নয়, বরং বিল জমা দেওয়ার সাথে সাথে গ্রাহকের তথ্য বিআরইবির কেন্দ্রীয় সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়ে যাবে। এতে করে বিল পরিশোধ নিয়ে যেকোনো ধরনের বিলম্ব বা জরিমানার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে এবং গ্রাহকরা আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই উদ্যোগটির বহুমুখী প্রভাব রয়েছে। প্রান্তিক মানুষের জন্য বিদ্যুৎ বিল দেওয়া সহজতর হওয়ার মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। সরকারের আর্থিক সেবার ডিজিটালাইজেশন নীতির সাথেও এই উদ্যোগটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। নগদ অর্থ লেনদেনের ঝুঁকি কমিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে ইউটিলিটি বিল পরিশোধের এই ব্যবস্থা আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা আনতে সহায়তা করবে। এছাড়া বিআরইবির জন্য এই চুক্তির ফলে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সুরক্ষিত হবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সরাসরি কেন্দ্রীয় হিসাবে জমা হওয়ার কারণে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আসবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সেবা প্রদানকারী সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে এ ধরনের সমন্বয় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির (Financial Inclusion) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের মতো একটি নিয়মিত কাজকে যখন আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হয়, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং অভ্যাস গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখে। এই চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও কমিউনিটি ব্যাংক উভয়েই তাদের সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত করতে সক্ষম হবে।