বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নামকরণ এবং বিদ্যমান নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন এবং বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম নেতিবাচক, শ্রুতিকটু বা স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নামকরণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম যাতে স্থানীয় ঐতিহ্য, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অবদানের প্রতিফলন ঘটায়, সে বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগটি দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অনেক সময় প্রাচীন বা লোকমুখে প্রচলিত কিছু নামের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় প্রকাশে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে এই নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্রশাসনিক সংস্কার সেই লক্ষ্য অর্জনেই একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।