খেলাধূলা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ড্যারেন ওয়াটকিনস জুনিয়র, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আইশোস্পিড’ নামে পরিচিত। মায়ামি স্টেডিয়ামে গ্যালারিতে খেলা দেখার সময় এক দর্শক তাকে উদ্দেশ্য করে এই আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বিষয়টি আমলে নেয় এবং ঘটনার তদন্তে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করে।
গত ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির এক দর্শক আইশোস্পিডকে লক্ষ্য করে স্প্যানিশ ভাষায় ‘চিড়িয়াখানায় গিয়ে কাঁদো’ বলে বর্ণবাদী ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। আইশোস্পিড মূলত আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা, মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম ফক্স স্পোর্টস এবং ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের সাথে একটি বিশেষ চুক্তির অংশ হিসেবে চলমান বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো গ্যালারি থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ স্ট্রিমিং) করছিলেন। লাইভ চলাকালীনই এই ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্ণবাদের এই ঘটনার ভিডিওচিত্রটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্রীড়াঙ্গনে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি ওঠে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ফিফা একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে সংস্থাটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া উক্ত বর্ণবাদী আচরণের বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিবৃতিতে ফিফা আরও উল্লেখ করেছে যে, ফুটবলের মতো একটি বৈশ্বিক মঞ্চে যেকোনো ধরনের বর্ণবাদ, বিদ্বেষমূলক আচরণ বা বৈষম্যকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল মাঠের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও সংস্কৃতির মানুষের ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক সম্মানের একটি বড় উৎসব। ফলে এই উৎসবের মূল ভাবধারা ও চেতনাকে যারা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ফিফা সবসময়ই আপসহীন ও কঠোর আইনি অবস্থান গ্রহণ করবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে বর্ণবাদ দূর করতে ফিফা দীর্ঘদিন ধরে ‘নো টু রেসিজম’ ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়ন করে আসছে। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলোয়াড় বা দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের দায়ে স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞা এবং বড় অঙ্কের জরিমানার নজির রয়েছে। চলমান বিশ্বকাপে এই ধরনের ঘটনা বিশ্ব ফুটবলের ভাবমূর্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ফিফার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তদন্তের পর দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্টেডিয়ামে আজীবন নিষেধাজ্ঞা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।