রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে শিক্ষা, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুকের এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে দুদেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকের শুরুতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও সুসংহত করতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দিতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ককে আগামীতে আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় যুক্তরাজ্যকে একটি ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে দেশের শাসনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের এখানে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে করে দুদেশের শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
এদিকে একই দিন স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেসের (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রসংঘের এই সংস্থার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে এবং পরিবেশবান্ধব নগর ও গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান এনডিসিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।