বাংলাদেশ ডেস্ক
ভবিষ্যতে দেশে আরও নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ এক না হলেও, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিগত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাকে কাজে লাগাতে চায় কমিশন। এই লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর একটি স্থানীয় হোটেলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, সংস্কার ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এসব তথ্য জানান। বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য করার প্রক্রিয়া হিসেবে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
সংলাপে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা পর্যালোচনা ও সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে আমলে নিলে আগামী দিনের নির্বাচনগুলোয় ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হবে।
কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মূল্যায়ন ও সুপারিশগুলোকে কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। দেশের জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন দুটি ভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই আইনি জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বিগত নির্বাচনগুলোর পরবর্তী মূল্যায়ন কার্যক্রমও ইতিমধ্যে কমিশন সম্পন্ন করেছে বলে তিনি জানান।
সংলাপে আন্তর্জাতিক অংশীজনদের পক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার অংশ নেন। তিনি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার গুণগত ও কাঠামোগত উন্নয়নে ভবিষ্যতে ইইউ জোটের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা বজায় রাখার আশ্বাস ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করা দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের এই সংস্কারমুখী উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সহযোগিতা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে আইনি কাঠামোর সংস্কার ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।