নিজস্ব প্রতিবেদক
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল। আজ বুধবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তরে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং গণমাধ্যমের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি ও ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই নেদারল্যান্ডস একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। বিগত দশকগুলোতে এই সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, টেকসই উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও সুদৃঢ় ও বহুমুখী করতে বর্তমান সরকারের সঙ্গে নেদারল্যান্ডস নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের গণমাধ্যম, তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে নেদারল্যান্ডসের মতো অভিজ্ঞ দেশের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার ব্যাপারে তিনি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সমসাময়িক বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নিউ মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামগ্রিক ডিজিটাল ইকো-সিস্টেম প্রথাগত ব্যবস্থার সামনে নতুন এবং জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই আধুনিক প্রযুক্তির যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কাও থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যেমন অপরিহার্য, ঠিক তেমনি নাগরিকদের ভুল তথ্য ও সুপরিকল্পিত অপতথ্য (মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন) থেকে সুরক্ষা দেওয়াও রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এই ডিজিটাল চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট, সময়োপযোগী এবং কার্যকর স্ট্র্যাটেজি বা কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী। এই প্রেক্ষাপটে নেদারল্যান্ডস সরকার তাদের দেশে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিউ মিডিয়ার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করছে এবং তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করছে, সে বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও গৃহীত নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল তথ্যমন্ত্রীর এই পর্যবেক্ষণকে সাধুবাদ জানান এবং একমত পোষণ করে বলেন, সাইবার জগতের নিরাপত্তা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই এখন বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে একটি আধুনিক আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ফ্রেমওয়ার্ক বা রূপরেখা প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এ সময় তিনি নেদারল্যান্ডস সরকারের গৃহীত বিভিন্ন আইনগত, প্রযুক্তিগত ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন এবং এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাতকালে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা মনে করেন, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে নতুন মাত্রা পাবে, যা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।