বিনোদন ডেস্ক
ভিয়েতনামের দা নাং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সমালোচক বিভাগে সেরা এশিয়ান চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করেছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘রইদ’। নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের চলচ্চিত্রের জন্য এক বড় গৌরব বয়ে এনেছে। উৎসব কর্তৃপক্ষের বিচারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নির্মাতা এই অর্জনকে বাংলাদেশের গল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি অনন্য সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনি রাজবাড়ীর এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাস্তব প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। সাদু নামের এক ব্যক্তি এবং তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর মধ্যকার টানাপোড়েন ও সম্পর্কের গভীরতা এই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য। স্বামী তার স্ত্রীকে বারবার দূরে রেখে আসলেও সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে স্ত্রী আবারও স্বামীর ঘরে ফিরে আসেন। এই মানবিক ও বাস্তবধর্মী গল্পটি নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন তার মা সেলিনা বানু মনির কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। মা ও ছেলের যৌথ ভাবনায় গল্পটি পর্দায় রূপ পেয়েছে।
‘রইদ’ চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র সাদুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ দেশের বেশ কয়েকজন গুণী শিল্পী। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে রচনা করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিন ফারুক আমিন, সিদ্দিক আহমেদ ও সুকর্ণ শাহেদ ধীমান। সিলেটের মেঘালয় সীমান্তবর্তী মনোরম ও বৈচিত্র্যময় এলাকায় সিনেমাটির দৃশ্যধারণ সম্পন্ন হয়, যা চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়নকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।
গত ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ‘রইদ’ এর অভিনয় শৈলী, শক্তিশালী গল্প এবং নান্দনিক চিত্রায়ণের জন্য দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। বাণিজ্যিক সফলতার পাশাপাশি দেশীয় প্রেক্ষাপটে প্রশংসিত হওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই শীর্ষ সাফল্য বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারাকে বৈশ্বিক দরবারে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।