বিশেষ প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সাভারের সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করবে সরকার। আজ মঙ্গলবার সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এ ধরনের সহিংস ঘটনায় শুধু মৌখিক প্রতিবাদ জানানো সরকারের কাজ নয়, বরং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।
গতকাল সোমবার রাতে সাভারে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সমাবেশে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ ওঠে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আকস্মিক এই হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনার পরপরই এনসিপির নেতাকর্মীরা সাভার এলাকায় একটি তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, এই হামলার পেছনে স্থানীয় প্রশাসনের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এনসিপি আহ্বায়কের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ঘটনার এখনো ২৪ ঘণ্টাও পার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। নাহিদ ইসলামের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবে অভিহিত করে উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁর কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক মন্তব্য আশা করে সরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিরাপত্তা এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো সহিংস ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। সরকার যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করতে না পারে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বাড়তে পারে। সাভারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে যেন নতুন কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করা হবে বলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।