ক্রীড়া প্রতিবেদক
স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সোমবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মুখোমুখি হবে দুই দল। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে সাম্প্রতিক সময়ে টানা চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। তবে স্বাগতিক কন্ডিশনে টেস্ট ম্যাচ জয়ী জিম্বাবুয়েকে তাদের ঘরের মাঠে মোকাবিলা করা টাইগারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ শিবিরের জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওপেনিং এবং মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ব্যাটাররা ভালো পারফর্ম করলেও জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে পেইস ও বাউন্স সামলানো অন্যতম প্রধান পরীক্ষা হবে। বিশেষ করে ওয়ানডে সংস্করণে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে হলে টপ অর্ডার ব্যাটারদের বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে নিয়মিত ব্যাটার লিটন দাসের চোটের শঙ্কা। টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে লিটন দাস ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে একাদশে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানের অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত।
লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গী কে হবেন, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে জিম্বাবুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশ দলের থিংক-ট্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে ফর্মের বাইরে থাকা ডানহাতি ব্যাটার সাইফ হাসানকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি অভিজ্ঞ সৌম্য সরকারকে একাদশে ফিরিয়ে আনা হবে—তা ম্যাচের আগে পিচ ও কন্ডিশন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের কথা চিন্তা না করলে সৌম্য সরকারের একাদশে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বরে নাজমুল হোসেন শান্ত এবং চার নম্বরে তাওহিদ হৃদয়ের খেলা নিশ্চিত। লিটন না খেললে পাঁচ নম্বরে নুরুল হাসান সোহান এবং ছয় নম্বরে দেখা যেতে পারে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। দলের অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ সাত নম্বরে ব্যাটিং করার পাশাপাশি স্পিন বিভাগের মূল দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছে দল। ঘরের মাঠে বিগত কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশের পেইস ইউনিট দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। হারারের স্পোর্টিং উইকেটে তিন বিশেষজ্ঞ পেইসার তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানাকে নিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজানো হতে পারে। একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে একাদশে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। পেইস ও স্পিনের এই ভারসাম্য জিম্বাবুয়ের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে চেপে ধরতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে জয় পাওয়ায় মানসিকভাবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজেও সেই ধারা বজায় রাখতে চাইবে রিচার্ড এনগারাভার দল। সিকান্দার রাজা, ক্রেইগ আরভিন এবং রায়ান বার্লের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ শক্তিশালী। একই সাথে ব্লেসিং মুজারাবানির নেতৃত্বাধীন পেইস আক্রমণ সফরকারী ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে টেস্টের ভুলগুলো শুধরে ব্যাটিংয়ে বড় রান সংগ্রহ করা এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা।
ম্যাচের সম্ভাব্য একাদশ:
বাংলাদেশ: তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান/সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা।
জিম্বাবুয়ে: ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান/ইনোসেন্ট কাইয়া, ব্রেন্ডন টেইলর, ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা, রায়ান বার্ল, ক্লিভ মাদান্দে (উইকেটরক্ষক), ব্র্যাড ইভান্স, রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্লেসিং মুজারাবানি ও এরনেস্ট মাসুকু।