নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে সরকার নতুন বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানের বৈষম্য কমিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকেরা। বিদ্যালয়টির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত অবস্থা সরজমিনে পরিদর্শনকালে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার বর্তমানে শিক্ষা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই হার সন্তোষজনক পর্যায়ে কমিয়ে আনতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশব্যাপী চালু করা হবে। প্রাথমিক স্তরের ভিত্তি মজবুত করতে শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান সমস্যাসমূহ ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা শুরু হয়েছে। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ নানা সংকট পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শহর অঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান শিক্ষা কাঠামোকে আরো সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী করে তুলতে নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরেই পাঠ ও লিখন দক্ষতার যে ঘাটতি বা দুর্বলতা দেখা যায়, তা দূর করাই হবে এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষাই যেকোনো দেশের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার মূল ভিত্তি। প্রাথমিক স্তরে গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে উচ্চশিক্ষায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সরকারের এই নতুন উদ্যোগ ও পরিকল্পনাগুলো মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আরো কার্যকর, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুগোপযোগী হয়ে উঠবে।