বিশেষ প্রতিবেদক
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ অংশ নিচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার ফরম পূরণ করেছেন সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। ফলে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়েছেন, যা গত বছরের ২৯ শতাংশের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ফরম পূরণ না করা নিয়মিত শিক্ষার্থীর হার সর্বোচ্চ ৫৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যমতে, দেশের ২০ হাজারের বেশি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭০২টি। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি (১৮ শতাংশের বেশি) শূন্য রয়েছে। এছাড়া মোট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ তথা ৩৮৩টি প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর এই ড্রপ আউট এবং মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক সংকটের কারণে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিক অনীহা একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আগের বছরের চেয়ে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১ লাখ ৩৬ cut ৬০৬ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা জিডিপির ২ শতাংশ। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রযাত্রার মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে এই বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা কেবল অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং কাঠামোগত সংকট দূর করার ওপর জোর দিচ্ছেন।