বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান জটিল পরিস্থিতি ও বিশাল দায়-দেনা কাটিয়ে উঠতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে একমাত্র পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংলাপে ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং খাতের সংস্কারে ১৮ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কর সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে নির্ধারিত সময়েই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার বিপক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বেসরকারি খাত মুনাফাভিত্তিক সেবা দেয়, পক্ষান্তরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মুনাফাহীন গণমুখী সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দেওয়া গেলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পেত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রূফটপ সোলার বা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্যাবল টিভি অপারেটরদের মতো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে এর বিল আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রতি ইউনিট ৭ টাকায় সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলে গ্রাহক পর্যায়ে সাশ্রয় নিশ্চিত হবে। এছাড়া, কৃষি জমি সুরক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রেলওয়ে ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের পতিত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সোলার প্যানেলের নিচেই সবজি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে, যা জমির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করছে।
সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অধিকাংশ লোডশেডিং ও বিভ্রাটের মূল কারণ কারিগরি ত্রুটি এবং বিতরণ লাইনের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তদারকির অভাব দূর করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের তদারকি করবে। পূর্ববর্তী সরকারের অপরিকল্পিত ও ব্যবসাকেন্দ্রিক প্রকল্প গ্রহণের ফলে বর্তমান খাতটি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল ও পল্লী বিদ্যুতের স্মার্ট মিটার প্রকল্পের ধীরগতির কথা উল্লেখ করেন।
জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকার দেশে অন্তত ৩ মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অতীতের বৈশ্বিক সংকটের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি অযৌক্তিক আতঙ্কের কারণে বাজারে অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সংলাপে উত্থাপিত ক্যাবের ১৮ দফা সুপারিশ বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় জ্বালানি কৌশলপত্র প্রণয়নে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।