আইটি ও টেলিকম ডেস্ক
বিশ্ববাজারে ডিভাইস-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের স্মার্টফোন ও গ্যাজেট বাজারে নতুন রূপে যাত্রা শুরু করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে। দেশীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান পুনর্প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও ওয়্যারেবল ডিভাইসসহ একসঙ্গে ১৩টি নতুন স্মার্ট পণ্য উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার বাংলাদেশে হুয়াওয়ের ডিভাইস ব্যবসায়িক অংশীদার ও জাতীয় পরিবেশক (ন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউটর) হিসেবে যুক্ত হয়েছে ডিএক্স গ্রুপ।
সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর গুলশানে হুয়াওয়ের কর্পোরেট কার্যালয়ে ‘নাও ইজ ইয়োর স্পার্ক’ স্লোগানকে সামনে রেখে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্যগুলো উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের প্রযুক্তি ও লাইফস্টাইল খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং গুগল মোবাইল সার্ভিস (জিএমএস) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বৈশ্বিক ও স্থানীয় বাজারে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘হারমোনিওএস’ এবং শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পর প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারে ঘুরে দাঁড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বাজারে এই আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনকে প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। এর ফলে দেশের প্রিমিয়াম ও ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে।
হুয়াওয়ে এবার মূলত স্মার্টফোন, ফোল্ডেবল ফোন, ট্যাবলেট, ওয়্যারেবল গ্যাজেট ও অডিও—এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে তাদের অত্যাধুনিক পণ্যগুলো দেশের বাজারে নিয়ে এসেছে। উন্মোচিত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে উন্নত ক্যামেরাসমৃদ্ধ ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘হুয়াওয়ে মেট ৮০ প্রো’, প্রিমিয়াম ফোল্ডেবল প্রযুক্তির ‘মেট এক্স court’ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষণীয় কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘মেটপ্যাড ১১.৫’ ট্যাবলেট। এছাড়া স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও লাইফস্টাইল ট্র্যাকিং সুবিধাসম্পন্ন ‘ওয়াচ ফিট ৫ সিরিজ’ এবং সি-ব্রিজ ডিজাইনের ওপেন-ইয়ার অডিও ডিভাইস ‘ফ্রিক্লিপ ২’ সহ বেশ কিছু নতুন গ্যাজেট প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড এরিক পাং বলেন, “হুয়াওয়ের মূল চালিকাশক্তি হলো তার ধারাবাহিক উদ্ভাবন। আমরা এমন কিছু ফ্ল্যাগশিপ পণ্য বাজারে এনেছি, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন উৎপাদনশীলতা, সৃজনশীলতা ও জীবনযাত্রার মানকে আরও উন্নত ও সহজতর করবে।” তিনি বাংলাদেশের বাজারে ব্র্যান্ডটির টেকসই প্রবৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে বাংলাদেশে হুয়াওয়ে ডিভাইসের একমাত্র জাতীয় পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ডিএক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান কানন বলেন, “হুয়াওয়ের মতো একটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের অংশীদার হতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমাদের শক্তিশালী দেশব্যাপী বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হুয়াওয়ের এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি পণ্যগুলো দেশের প্রতিটি প্রান্তের গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”
দেশের প্রযুক্তি বাজারে অবৈধ বা অননুমোদিত (গ্রে মার্কেট) ডিভাইসের ভিড়ে গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়েছে হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে আমদানিকৃত এসব ডিভাইসে গ্রাহকরা শতভাগ জেনুইন ওয়ারেন্টি, আসল খুচরা যন্ত্রাংশ (পার্টস) এবং নির্ভরযোগ্য বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানসম্পন্ন বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা এবং ডিএক্স গ্রুপের শক্তিশালী বিপণন নেটওয়ার্কের কারণে হুয়াওয়ে দ্রুতই দেশের প্রিমিয়াম সেগমেন্টের গ্রাহকদের আস্থা পুনর্দখল করতে সক্ষম হবে।