শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অধীনে ৪টি নতুন থানা এবং ৬টি তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বুধবার সকালে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই তথ্য জানান। নতুন আবাসন প্রকল্পটিতে ভবিষ্যতে পরিকল্পিত নাগরিক সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পুলিশের এই সাংগঠনিক বিস্তৃতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার পরিধি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির আওতায় ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ২টি পুলিশ লাইনস, ৩টি ডিসি (উপ-পুলিশ কমিশনার) অফিস এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই অবকাঠামোগুলো নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে পুলিশের অনুকূলে ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে।
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও জনবল কাঠামোর বিস্তৃতি নিয়ে আইজিপি আরও জানান, সামগ্রিক পূর্বাচল এলাকাকে ডিএমপির পূর্ণাঙ্গ আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের (এডিশনাল কমিশনার) নেতৃত্বে একটি পৃথক বিভাগ বা জোন গঠন করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিশাল অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন করে প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন পুলিশ সদস্যের জনবল সৃষ্টির একটি প্রস্তাবনা এবং পরিকল্পনাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পটি রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত উপশহর হিসেবে গড়ে উঠছে। দিন দিন এখানে মানুষের যাতায়াত, বসতি স্থাপন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো অপরাধমূলক তৎপরতা যেন দানা বাঁধতে না পারে, সে জন্য আগাম নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। নতুন থানা, তদন্ত কেন্দ্র ও পুলিশ বক্সগুলো স্থাপিত হলে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দ্রুততম সময়ে আইনি সেবা পাবেন এবং সামগ্রিক অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রকল্পের কৌশলগত নিরাপত্তা বজায় রাখাও সহজ হবে।
‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের মধ্য দিয়ে পূর্বাচল এলাকার সাধারণ মানুষ ও আবাসন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও এক ধাপ জোরদার হলো।