বাংলাদেশ ডেস্ক
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কর্মসূচির তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কর্মসূচির প্রাক-পাইলট ও পাইলট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত নীতিগত ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করবে।
সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় কৃষি খাতে সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণ, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা এবং তথ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রেসসচিব জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সহায়তা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা বিতরণ, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, নির্ধারিত হারে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য প্রদান। পাশাপাশি ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
কর্মসূচিটি কেবল শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধ খামারিরাও এ কার্ডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে কৃষি খাতের বহুমুখী উপখাতকে একটি সমন্বিত নিবন্ধন ও সেবাব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রেসসচিবের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে দেশের আট বিভাগের নয়টি উপজেলায় মোট নয়টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ। এসব এলাকায় ভৌগোলিক ও কৃষি বৈচিত্র্য বিবেচনায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যাতে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিবন্ধন, তথ্য সংরক্ষণ এবং কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। তথ্যভান্ডার তৈরির মাধ্যমে কৃষক-ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সহায়তা প্রদান এবং ভর্তুকি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা গড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে ভর্তুকি অথবা সমপরিমাণ কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৌসুমি প্রণোদনা কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং সময়মতো আবাদ নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায়ের মূল্যায়ন শেষে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, একটি কেন্দ্রীয় কৃষক ডাটাবেইস গড়ে উঠলে কৃষি খাতে পরিকল্পনা প্রণয়ন, ভর্তুকি বিতরণ, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।