ক্রীড়া প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা। এই জয়ের মাধ্যমে শেষ ৩২-এর চূড়ান্ত দল হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট সংগ্রহ করলো কলম্বিয়া। আগামী নকআউট পর্বে বা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে দলটিকে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের মধ্য দিয়ে খেলতে থাকে। তবে প্রথমার্ধের শুরুতেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে যায় কলম্বিয়া। খেলার ১৪ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে সতীর্থের বাড়িয়ে দেওয়া নিখুঁত পাসে বল পান কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার জন আরিয়াস। ডি-বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার শটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ঘানার জালে বল পাঠান তিনি। আরিয়াসের এই দর্শনীয় গোলের ওপর ভর করেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় কলম্বিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ঘানা। তবে কলম্বিয়ার রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় তারা উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, কলম্বিয়া তাদের আক্রমণের ধার বজায় রাখে এবং ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে কলম্বিয়ার তারকা ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াস ঘানার রক্ষণভাগ ভেঙে বল জালে জড়ালে উদযাপনে মেতে ওঠে দলটি। তবে সহকারী রেফারির অফসাইডের সংকেতে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখা যায়, বল পাওয়ার আগেই দিয়াস অফসাইডের ফাঁদে পড়েছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি।
ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো দলই গোল করতে না পারায় জন আরিয়াসের প্রথমার্ধের গোলটিই ম্যাচের জয়সূচক গোল হিসেবে প্রমাণিত হয়। ঘানা বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও ম্যাচের সমতায় ফিরতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আফ্রিকান প্রতিনিধি দলটিকে। এই হারের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো ঘানার।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কলম্বিয়ার এই জয় তাদের পরবর্তী রাউন্ডের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে জন আরিয়াসের গোল এবং পুরো ম্যাচে রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স কলম্বিয়ার কৌশলগত শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তবে লুইস দিয়াসের গোল বাতিলের ঘটনাটি দলটির আক্রমণভাগের কিছুটা অসতর্কতাকেও নির্দেশ করে, যা সুইজারল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ঘানার বিদায়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টে আফ্রিকান অঞ্চলের দলগুলোর সীমাবদ্ধতা আরও একবার দৃশ্যমান হলো, যা ভবিষ্যতে তাদের রণকৌশল পুনর্বিন্যাসে ভূমিকা রাখবে।