নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি সফর শেষে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেনাপ্রধানের দেশে ফেরার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সফরকালে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান উভয় দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং মতবিনিময় করেন। এর আগে গত ২৮ জুন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলসহ তিনি এই দুই ইউরোপীয় দেশে সরকারি সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন।
আইএসপিআর সূত্র জানায়, এই রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প-স্থাপনা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি দেশ দুটির আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণ করেন। সেই সাথে বাংলাদেশের সাথে সামরিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা বিনিময়ের সম্ভাব্য খাতগুলো নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামরিক কর্মকর্তারা বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে তাদের সামরিক সক্ষমতা ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধানের এই দ্বিপাক্ষিক সফরটি বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউরোপের এই দুটি দেশের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সেনাপ্রধানের এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আস্থা এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ‘ফোর্সেস গোল’-এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই পরিদর্শন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সাথে সফরটি আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা কার্যক্রম এবং সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের পরিধি বিস্তারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। সফর শেষে দেশে ফেরার পর সেনাবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ গতিশীল থাকবে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।