1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর নির্দেশ মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা অ্যামাজনের দুই ডেটা সেন্টার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর ও রিশাদের ‘দ্য হান্ড্রেড’ নিলামে স্থান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট দলগুলোর ভ্রমণ ব্যাহত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত, বিশ্ববাজার পরিস্থিতি নজরে রাখছে বিপিসি ইরানির ওমরাহযাত্রীদের সৌদি আরব ত্যাগ শুরু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেছেন ঈদুল ফিতরের ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদে

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজুর ইন্তেকাল

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সাহিত্য সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের ঢাকা জেলার (বর্তমান মানিকগঞ্জ) জাবরা গ্রামে মাতুলালয়ে জাহানারা আরজুর জন্ম। তাঁর বাবা আফিল উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী এবং মা খোদেজা খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ সুস্পষ্ট ছিল। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ‘অঞ্জলি মোর গুঞ্জরণী’ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন, যা তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রাথমিক প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত।

জাহানারা আরজুর প্রথম কবিতা ১৯৪৫ সালে তৎকালীন অভিভক্ত বাংলায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাময়িকী ও সাহিত্যপত্রে তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধ নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৯ সাল থেকে কবি সুফিয়া কামালের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। নারীর শিক্ষা, সামাজিক অধিকার ও সাহিত্যচর্চা বিস্তারে এই পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সাহিত্য গবেষকরা মনে করেন।

সাহিত্য সম্পাদনার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে রাইটার্স গিল্ডের পত্রিকা ‘পরিক্রম’-এ যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া টিবি অ্যাসোসিয়েশনের পাক্ষিক ‘হেলথ বুলেটিন’-এর প্রধান সম্পাদক এবং ‘সেতুবন্ধন’ সাহিত্যপত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। সম্পাদক হিসেবে তাঁর কাজ মূলত সাহিত্যচর্চা, সামাজিক সচেতনতা এবং সংস্কৃতিচর্চাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

কবিতা ছিল তাঁর সৃজনশীলতার প্রধান ক্ষেত্র। প্রেম, প্রকৃতি, মানুষ ও সমাজ তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। সহজ ও সাবলীল ভাষাশৈলীর মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিমানুষের অনুভূতি এবং সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘নীলস্বপ্ন’ (১৯৬২), ‘রৌদ্র ঝরা গান’ (১৯৬৪), ‘সবুজ সবুজ অবুঝ মন’, ‘আমার শব্দে আজন্ম আমি’, ‘ক্রন্দসী আত্মজা’, ‘বাদল মেঘে মাদল বাজে’ এবং ১৯৭১ সালে প্রকাশিত একুশে ফেব্রুয়ারি বিষয়ক স্বনির্বাচিত কবিতা সংকলন ‘শোণিতাক্ত আখর’। এসব গ্রন্থে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রকৃতিপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়বস্তু গুরুত্ব পেয়েছে।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে মোট ২৬টি সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি কবি, সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

জাহানারা আরজুর স্বামী ছিলেন দেশের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি এ কে এম নুরুল ইসলাম। পারিবারিক জীবনে তিনি চার সন্তানের জননী। তাঁর বড় ছেলে মো. আশফাকুল ইসলাম হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ছোট ছেলে প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিনুল ইসলাম। বড় মেয়ে অধ্যাপিকা মেরিনা জামান এবং ছোট মেয়ে লুবনা জাহান পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন।

মরহুমার প্রথম জানাজা সোমবার বাদ মাগরিব গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা বাদ ঈশা ও তারাবির নামাজের পর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার খলিলপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানেই স্বামীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

জাহানারা আরজুর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যাঙ্গন একজন প্রবীণ কবি ও সম্পাদককে হারাল। তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যকর্ম, সম্পাদনা কার্যক্রম এবং নারী জাগরণে ভূমিকা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026