1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যৌথ প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার ও ইউক্রেনের জন্য নতুন সামরিক তহবিল ঘোষণা ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রাণহানি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া রুদ্ধশ্বাস জয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা, কেপ ভার্দেও প্রশংসা করলেন মেসি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আজ বিশেষ স্মরণসভা, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা সাইবার আইন সংস্কারে আইনজীবীদের পরামর্শ নেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

ইরানে সরকার উৎখাতে বিশ্ববাসীর সহায়তা চাইলেন রেজা পাহলভি

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৬৭ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির নির্বাসিত পুত্র ও বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি দেশটির চলমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইরানের বর্তমান সরকার উৎখাতে আন্দোলনকারীদের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন অনিবার্য; প্রশ্ন কেবল কখন সেই পরিবর্তন ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই নেতা ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন জোরদারের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক বা ‘সার্জিক্যাল’ হামলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে আন্দোলনকারীদের সংগঠিত হওয়া সহজ হবে এবং সহিংসতায় প্রাণহানির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রীয় দমননীতির মুখে পড়ছেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রথম দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানের সংকটের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। বিক্ষোভ দ্রুত তেহরান ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে বিদেশি শক্তির মদদে সৃষ্ট ‘দাঙ্গা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এই দমন অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে বিরোধী শিবিরের ভেতরে বিভক্তি থাকলেও রেজা পাহলভি সাম্প্রতিক সময়ে একজন উল্লেখযোগ্য মুখ হিসেবে সামনে এসেছেন। এর আগেও তিনি প্রকাশ্যে আন্দোলন জোরদার এবং সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

দমন অভিযানের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দেশটির ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে হতাহত ও গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি ইরানে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথাও জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলে তিনি দেশটির জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে চান। তাঁর প্রস্তাবিত রূপরেখায় দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা, ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ, ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু অংশ আন্দোলন দমনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং সরকার বিদেশি মিলিশিয়া ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি বলেন, ইরানের জনগণই তাদের নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে। তাঁর ভাষায়, তিনি নিজেকে কোনো ক্ষমতার দাবিদার হিসেবে নয়, বরং জনগণের আত্মমুক্তির প্রক্রিয়ায় সহায়তাকারী হিসেবে দেখেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সম্ভাব্য রাজনৈতিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে জনগণের ভূমিকার ওপর জোর দেন।

বর্তমান আন্দোলনের সূচনা হয় তেহরানে দোকানিদের ধর্মঘট থেকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রার মান পতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি দ্রুত দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরোধিতায় বিস্তৃত হয়। বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন স্লোগানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে অন্তত দুই হাজার ৪৫৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী বা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫৬ জন এবং সম্পৃক্ত নন এমন ১৪ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ১৮ হাজার ৪৭০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026