বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এবারের অধিবেশনে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল এই বহুপক্ষীয় ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এক বছর মেয়াদী এই অধিবেশন চলবে ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা : সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ।’
অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ড. খলিলুর রহমান। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর জাতিসংঘে অবস্থিত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে নতুন বৈশ্বিক নেতৃত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এর আগে গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই গোপন ভোটে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকোরিস পেয়েছিলেন ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি বৈধ ভোট পড়েছিল ওই নির্বাচনে।
জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি সংস্থার নির্ধারিত পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। ৮১তম অধিবেশনের জন্য নির্ধারিত এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই জয় অর্জন করেন ড. খলিলুর রহমান। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বহুপক্ষীয় কূটকৌশলে বাংলাদেশের জন্য এটিকে একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর দীর্ঘ প্রায় চার দশক আগে ১৯৮৬- ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও একজন বাংলাদেশি নাগরিক বিশ্ব সংস্থার এই শীর্ষ নীতিনির্ধারণী পদে আসীন হলেন।
বিশ্বের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংস্থাটির প্রধান নীতিনির্ধারণী ও প্রতিনিধিত্বমূলক আলোচনা ফোরাম হিসেবে কাজ করে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবাধিকার সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বৈশ্বিক ইস্যুতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে এই পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড. খলিলুর রহমানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতায় অবদান রাখার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।