রাজধানী ডেস্ক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীরা সবাই বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণে অংশ নিতে সোমবার রাতে সেন্ট মার্টিন পরিবহনের চারটি বাসযোগে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রা শুরু করার পর রাত সাড়ে ৪টার দিকে বহরটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে বাসে থাকা অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। আহত ২০ জনের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সাপেক্ষে ৯ জন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহত শিক্ষার্থীদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর উদ্দিন বাহার জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। বাসটিতে থাকা ৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জন আহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত ৯ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে একটানা গাড়ি চালানোর ফলে চালকের ক্লান্তি বা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোর এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এ ধরনের দূরপাল্লার শিক্ষাসফর ও আনন্দ ভ্রমণে রাতের যাত্রার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসগুলোর ফিটনেস যাচাই, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিতকরণ এবং নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে তদারকি করা না হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘন কুয়াশা বা রাতের দৃশ্যমানতা কম থাকার বিষয়টিও মহাসড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।