রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
মঙ্গলবার সকাল আটটা ৫০ মিনিটের দিকে রেললাইন মেরামত সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে সকালে নাটোরের লোকমানপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেললাইনের পাত ভেঙে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ হোসেন জানান, দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে নাটোরের লোকমানপুর স্টেশন এলাকায় রেললাইনের পাত ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। এই আকস্মিক ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রেললাইন বন্ধ থাকায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এবং সংলগ্ন বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন আটকা পড়ে। এর মধ্যে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস এবং খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেসসহ মোট ছয়টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন আটকা থাকায় স্টেশনে অপেক্ষমাণ হাজারো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে চরম ভোগান্তির শিকার হন।
খবর পেয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার নিবিড় প্রচেষ্টায় রেললাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়। পরে সকাল আটটা ৫০ মিনিটে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করা হলে রাজশাহী থেকে আটকে থাকা ট্রেনগুলো একে একে বিলম্বে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এদিকে হঠাৎ কেন এবং কীভাবে রেললাইনের পাত ভেঙে গেল, তা খতিয়ে দেখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত গরম বা শীতজনিত তাপমাত্রা পরিবর্তন, ট্রেনের অতিরিক্ত চাপ কিংবা রেললাইনের দীর্ঘদিনের বার্ধক্যজনিত কারণে এমন ত্রুটি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। রেললাইন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি নিরসনে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বনের দাবি জানিয়েছেন যাতায়াতকারী যাত্রীরা, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত শিডিউল বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।