আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে ফিরে এলেও ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন না প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানদের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে ২০২০ সাল থেকে রাজপরিবারের কার্যক্রমে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে রাজপ্রাসাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করা হলো।
রাজপ্রাসাদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার পর থেকেই প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল সাধারণ নাগরিকদের মতো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগ করে আসছেন। রাজা চার্লসের সাম্প্রতিক চিঠিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, ব্রিটেনে প্রত্যাবর্তন করলেও তাদের সেই পূর্বের কার্যনির্বাহী পদ বা রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্বে পুনর্বহাল করা হবে না। তবে রাজপরিবারের কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও হ্যারি ও মেগানের বর্তমান রাজকীয় খেতাব বা সম্মানসূচক পদবিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তাদের ব্যক্তিগত দাতব্য উদ্যোগ, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও স্বাধীন বিষয় হিসেবেই পরিচালিত হবে। কোনো অবস্থাতেই এসব কার্যক্রম রাজপরিবারের প্রাতিষ্ঠানিক নীতি বা অনুমোদনের সাথে যুক্ত থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কলের এই রাজপরিবারমুখী প্রত্যাবাসন এবং রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে নেওয়া এই সুনির্দিষ্ট অবস্থান ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের আধুনিক ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর একটি বড় প্রতিফলন। ২০২০ সালে জ্যেষ্ঠ রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তব্য ত্যাগ করে স্বাধীন জীবনযাপন এবং নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে এই দম্পতি যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেছিলেন। দীর্ঘ ছয় বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পর সম্প্রতি তারা সপরিবারে পুনরায় যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন। ব্রিটেনে তাদের এই পুনঃআগমন এবং সাধারণ নাগরিক হিসেবে জীবনযাপনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ায় রাজপরিবারের ভেতরের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি ও জনসমক্ষে তাদের ভূমিকা কেমন হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। রাজপ্রাসাদের এই স্পষ্ট বার্তা ভবিষ্যতে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিকতা এবং রাজকীয় উপাধির ব্যবহার নিয়ে যেকোনো ধরণের বিভ্রান্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।