আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যানিয়েল ড্রিসকল তাঁর পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে চলা নীতিনাগত ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের জেরে এই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটল, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগনের নেতৃত্বে চলমান অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ড্যানিয়েল ড্রিসকল সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ড্রিসকলের পদত্যাগের খবরটি সরাসরি অস্বীকার করা না হলেও তাঁর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি প্রশাসন তথা সেনাবাহিনী বিভাগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে ড্রিসকলের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের দ্বন্দ্বের মূল কারণ ছিল সেনাবাহিনীর রূপান্তর ও সামগ্রিক প্রস্তুতি সংক্রান্ত উদ্যোগগুলো। ড্রিসকল প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও কাঠামোগত পরিবর্তনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তাতে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং এর সঙ্গে জড়িত শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদের বরখাস্ত করছেন। বিশেষ করে, সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অপসারণের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব চরমে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ড্যানিয়েল ড্রিসকল মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কম খরচে অস্ত্র ও ড্রোন সংগ্রহ এবং সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে সেনাবাহিনীকে আরও নমনীয় ও আধুনিক করার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এছাড়া, ঐতিহ্যবাহী বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের নীতির সমালোচনা করে তিনি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আইন স্কুলের সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর হিসেবে পরিচিত।
ড্যানিয়েল ড্রিসকলের এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে হেগসেথের নেতৃত্বাধীন পেন্টাগন থেকে আরও এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিদায় ঘটল। এর আগে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান, সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জ এবং ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুর মতো শীর্ষ সামরিক কর্তারাও পদ ছেড়েছিলেন বা বরখাস্ত হয়েছেন। একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার এই বিদায় মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর বৃহত্তম শাখাটির কার্যক্রমে এক ধরনের নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।