আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় দুই শিশু ও চার নারীসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। গত রাতে কাফার রুম্মান এলাকার একটি তিনতলা ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং লেবাননজুড়ে চরম মানবিক সংকট ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রাতে কাফার রুম্মান এলাকার একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিহত হন। পরবর্তীতে ওই এলাকার একটি চলন্ত গাড়িতে পৃথক আরেকটি ড্রোন বা বিমান হামলা চালানো হলে আরও একজন স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে গত তিন দিনে ওই অঞ্চলে মোট ২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, লেবানন থেকে তাদের সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর দুটি বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। ওই হামলার প্রতিশোধ এবং হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস ও অস্ত্র স্থানান্তর প্রতিহত করতেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে আবাসিক ভবনে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে, এই সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। হামলার পর থেকে কাফার রুম্মান এবং আশপাশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর আতঙ্কিত সাধারণ বাসিন্দারা নিজেদের জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে শুরু করেছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সূত্র জানিয়েছে, এই আকস্মিক ও বিপজ্জনক সামরিক escalation বা উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অর্জিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। চলতি সংঘাত শুরুর পর থেকে লেবাননে এ পর্যন্ত আনুমানিক ৪,৩৬২ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও সর্বগ্রাসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।