সারাদেশ ডেস্ক
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা সংলগ্ন একটি ব্রিজে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পটুয়াখালী সদর উপজেলার তুষখালী গ্রামের আকবর মিয়ার ছেলে আরিফুর রহমান (২৩) এবং বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার দিয়াসুর গ্রামের ফরিদ হাওলাদারের ছেলে সালাউদ্দিন হাওলাদার (৩৪)। দুর্ঘটনায় আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং সালাউদ্দিন হাওলাদারকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে ঢাকাগামী ‘দশমিনা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এর আরোহীরা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হতাহতদের উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক কাজী ওবায়দুল কবির জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে বর্তমানে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত যাত্রীবাহী বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম রুট। এই মহাসড়কে প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা অভিযোগ করে আসছেন। বিশেষ করে মহাসড়কের বিভিন্ন সেতু ও বাঁকগুলোতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক সাইন ও গতিরোধক না থাকায় চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান, যা প্রায়শই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর আগেও এই অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও ছোট আকারের মোটরসাইকেলের মতো দ্রুতগতির যানের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট গতিসীমা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। মহাসড়কে রাতের বেলা দৃশ্যমানতা বাড়াতে পর্যাপ্ত পথবাতি ও সতর্কতামূলক সঙ্কেত স্থাপন করা গেলে এ ধরনের প্রাণহানি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।