1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জীবনের সর্বস্তরে শরিয়া পালনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য: ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও সুরকার ড. ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবার্ষিকী আজ শাহরুখ খানের ‘কিং’ চলচ্চিত্রে রানি মুখার্জি ও অভিষেক বচ্চনের সম্ভাব্য পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে জল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫ যুক্তরাজ্যে ফিরে আসলেও রাজপরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করবেন না প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল ঔপনিবেশিক আমলে সংগৃহীত নাগা জনগোষ্ঠীর ৩৯টি মানব দেহাবশেষ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে ইরান ও কানাডার কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস খাদে পড়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেলের ২০ শিক্ষার্থী আহত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশু ও নারীসহ নিহত ১২, যুদ্ধবিরতি চুক্তি চরম ঝুঁকিতে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই আরোহী নিহত

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে
রাজনীতি ডেস্ক
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে সেখানে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মৌলিক ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানেও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বা জাতীয় সমঝোতা বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত এবং নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান।
বৈঠকের শুরুতে জাপানের বিশেষ দূত সময় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি মিয়ানমারে জাতীয় সমঝোতা অর্জনে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিজের চলমান ভূমিকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর একটি বড় ধরনের বাড়তি চাপ তৈরি করেছে এবং এই পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি গভীরভাবে অবগত। পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও বহুমুখী সহযোগিতার বিষয়গুলোও তিনি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ দূতকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মানবিক ও শান্তিনেমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় ও মানবিক সংকট। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় শুরু থেকে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তিনি জাপান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি অত্যন্ত জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, স্থানীয় পরিবেশ, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক সামাজিক ব্যবস্থাপনার ওপর বহুমুখী ও গভীর চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাপানের বিশেষ দূত বৈঠকে জানান যে, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তাঁর সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকার এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জনে কিছুটা অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কেবল দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর এককভাবে নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে জাপান সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ দূত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
পাশাপাশি, বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে অত্যন্ত আগ্রহী এবং দেশে একটি নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে বিশেষ দূতকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক আরও উন্নত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026