অপরাধ ডেস্ক
ঢাকার কূটনৈতিক জোনে অবস্থিত চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি বিদেশি দূতাবাস এবং দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে ই-মেইলে চাঁদা দাবি ও নিরাপত্তা হুমকির ঘটনা ঘটেছে। ইমেইল মারফত এই হুমকি প্রদানকারী চক্রটি মূলত ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের অজ্ঞাতসারে তাদের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা বিকাশ হিসাব নম্বর ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি কূটনৈতিক জোনের দূতাবাসগুলোতে এই ধরনের সাইবার হুমকি ও চাঁদা আদায়ের অপচেষ্টার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবি প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে এটি নিছক কোনো সাধারণ চাঁদাবাজির ঘটনা নয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এর পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হেনস্তা করার মানসিকতা কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাবার কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। বিশেষ করে, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপরাধী চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সাধারণ ও নিরীহ লোকজনের ব্যক্তিগত বিকাশ বা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ব্যবহার করে ই-মেইলগুলো প্রেরণ করছে। এসব নম্বরধারীরা অনেক ক্ষেত্রেই জানেন না যে তাদের অ্যাকাউন্ট বা পরিচয় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম এবং গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ দল নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি মিশন ও সরকারি দপ্তরে এই ধরনের সাইবার হুমকি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের একটি অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। ফলে কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সাইবার মাধ্যমে এই ধরনের হুমকিদাতা চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কূটনৈতিক জোনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোর সাইবার নিরাপত্তা ও পাহারার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশা করছে, শিগগিরই এই অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।