বাংলাদেশ ডেস্ক
নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে নতুন র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়।
রোববার বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যৌথভাবে নৌবাহিনী প্রধানকে এডমিরাল র্যাংক পরিয়ে দেন। র্যাংক ব্যাজ পরিধানকালে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত এডমিরালকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর পেশাগত সফলতার জন্য শুভকামনা জানান। এই অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।
নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে নৌ-প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। তিনি তাঁর ৮৭-এ ব্যাচে জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব অফ প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ ও বিদেশ থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণিসহ তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এর একজন কৃতী গ্র্যাজুয়েট। ছাত্রজীবনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান লাভ করায় তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিলেন।
প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল (কমচিট), কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল (কমঢাকা), কমান্ডার সাবমেরিন (কমসাব), কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ) এবং নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পরিচালক নৌ-অপারেশন্স হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুক, বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয়, বানৌজা সৈকতসহ প্রায় সকল ধরনের যুদ্ধজাহাজের অধিনায়কত্ব করেছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ভবিষ্যৎ সামরিক নেতৃত্ব গঠনে ভূমিকা রেখেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এডমিরাল আজীম লেবানন এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তাঁর বর্ণাঢ্য ও অনুকরণীয় কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি), ‘নৌ পারদর্শিতা পদক’ (এনপিপি), ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ এবং ‘জাতীয় স্কাউট পুরস্কার’ (রৌপ্য ইলিশ পদক) অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া, ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার, ‘সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার’ এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে ‘সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কার’ লাভ করেন। এই উচ্চপদস্থ পদোন্নতি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।