রাজধানী ডেস্ক
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হলো সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা এবং সরকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক সুদৃঢ় করা। রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিস করার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সচেষ্টতা বজায় রাখা হচ্ছে। কাজের ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে সরকার সম্পূর্ণ অবিচল রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর বিশেষ জোর দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রামে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকসমাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নানা ধরনের চাপ ও নিয়ন্ত্রণের মুখেও গণমাধ্যম নানা অনিয়ম, নির্যাতন এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। তাই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে গণমাধ্যমের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাজ গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং প্রয়োজন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় সাধন করা। কোনো অবস্থাতেই যেন মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের কোনো অনৈতিক পথ অনুসরণ করা না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত দেড় দশকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে যে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, সংসদ ও রাজনৈতিক কাঠামোসহ রাষ্ট্রের নানা স্তরে যে নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে দৃষ্টি রেখে নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সভায় উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারের বিভিন্ন নীতি ও বার্তা জনগণের দোরগোড়ায় আরও সৃজনশীল উপায়ে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান সময়ে অপতথ্য, ভুল তথ্য ও নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মোকাবিলা করা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনসহ (বিএফডিসি) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে আরও ফলপ্রসূ ও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা সহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে গতি আনতে এবং পূর্বের দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।