রাজধানী ডেস্ক
রাজধানী ঢাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৪০টি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির আওতাধীন বিভিন্ন অপরাধ বিভাগের থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ইউনিটগুলো যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের গ্রেফতারকৃতদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অপরাধপ্রবণতা ও অভিযানের তীব্রতার ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন জোনে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক আসামি আটক হয়েছেন। এর মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বাধিক ১৩৭ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরা বিভাগে ৫৮ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৭ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬৪ জন, গুলশান বিভাগে ৪৫ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৯ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৮ জন এবং রমনা বিভাগে ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অভিযানেও ১ জন অপরাধীকে আটক করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য, চোরাই ও অবৈধ মালামাল উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ২৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ কেজি গাঁজা এবং বিভিন্ন মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি যেমন— তিনটি ফয়েল পেপার, পাঁচটি গ্যাস লাইট, দুটি ইয়াবা সেবনের পাইপ, একটি কর্ক এবং দুটি কয়েন। এছাড়াও অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, দেড় আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অপরাধের হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মূলত অপরাধের বিস্তার রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে মামলার প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। রাজধানীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনে এই ধরনের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ।