বাংলাদেশ ডেস্ক
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থায় বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা দূর করাকে নিজের কাজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নত করতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা হবে।
রোববার সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় এবং অধস্তন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। এর আগে সচিবালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নতুন মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী রদবদলকে একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে একটি দক্ষ ও গতিশীল দল গঠন করে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। কাজের গতি আরও বাড়াতে এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর অংশ হিসেবে তিনি প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ অথবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ভালো কাজের জন্য যেমন যথাযথ পুরস্কার ও স্বীকৃতি থাকবে, তেমনি দায়িত্বে অবহেলা বা খারাপ কাজের জন্য তিরস্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। সনাতন ও গতানুগতিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
সভায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর চালুকরণ এবং যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় তেজস্ক্রিয় ও স্পর্শকাতর সামগ্রী দ্রুত ও নিরাপদে পরিবহনের সুবিধার জন্য ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে উক্ত মেগা প্রকল্পের কাজে বাড়তি গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও যশোর বিমানবন্দরে বাণিজ্যিকভাবে ফ্লাইট সংখ্যা হ্রাসের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, এই রুটে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং সেবার মান ধরে রাখতে ইতোমধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বগুড়া বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য বর্তমানে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও গুরুত্ব দিতে এবং পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে আগামী অক্টোবর মাসে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জোরালো প্রস্তুতি চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের বহুমুখী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন মন্ত্রীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।