পরিবেশ ডেস্ক
উপকূলীয় অঞ্চলের তীব্র লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট নিরসনে মোংলাসহ আশপাশের এলাকার প্রতিটি ঘরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপকূলের বিভিন্ন ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার সকালে দিগরাজ এলাকায় বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নবাসীর মাঝে এসব পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চিলা, চাঁদপাই, সোনাইলতলা, মিঠাখালী ও সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের হাতে ট্যাংক তুলে দেওয়া হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই কার্যক্রমে মোট ৬টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে সুপেয় পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে মোংলা ও এর আশেপাশের এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চ লবণাক্ততার কারণে সাধারণ মানুষ পানিবাহিত নানা জটিলতায় ভুগে থাকেন। এই সংকট টেকসইভাবে মোকাবেলার জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণকে অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে বড় আকারের পানির ট্যাংক বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল ট্যাংক বিতরণই নয়, বরং সুপেয় পানির স্থায়ী উৎস সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি পুকুর পুনঃখননের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের কোনো মানুষ যেন সুপেয় পানির অভাবে কষ্ট না পায়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোংলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান জনি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ উপকূলের জনপদে সুপেয় পানির সংকট লাঘবে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করবে।