রাজনীতি ডেস্ক
পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন নবনিযুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, রাজনৈতিক দল, আঞ্চলিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমসহ সব অংশীজনকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং সময়ই বলে দেবে কীভাবে বিভিন্ন জটিল বিষয়ের সমাধান করা সম্ভব। তবে যেকোনো পদক্ষেপ বা কার্যক্রম অবশ্যই রাষ্ট্রের কাঠামো, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পতাকার মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে সম্মিলিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দায়িত্বকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সাচিং প্রু জেরী বলেন, যেকোনো বড় চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে দলীয় বা একক প্রচেষ্টার চেয়ে টিমওয়ার্ক বা সম্মিলিত দলগত কাজই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৃহত্তর পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কোনো ব্যক্তি, একক দল বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একা অর্জন করা সম্ভব নয়। পাহাড়ে বসবাসকারী সব জাতিসত্তা, জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিত পন্থায় এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মানসিকতা গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুভূতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, মূলধারার জনগোষ্ঠীর চিন্তা ও উপলব্ধির জায়গা থেকে পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে পাহাড়ের জনসাধারণকেও দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যে সুনির্দিষ্ট রূপকল্প বা ভিশন নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন এবং বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে যেসব জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজনৈতিক কর্মী ও মন্ত্রী হিসেবে তিনি সেসব সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে চান।
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত সংবাদ ও বিশ্লেষণ শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রবল প্রভাব ফেলে। তাই পাহাড়ের যেকোনো সংবেদনশীল পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা উচিত। বিষয়গুলো ইতিবাচক ও সত্যনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হলে দেশ ও দেশের বাইরে পার্বত্য অঞ্চলের একটি বাস্তবসম্মত ও অনুকূল ধারণা তৈরি হবে। ‘পিস’ বা শান্তি অত্যন্ত পবিত্র একটি শব্দ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতির সুফল পেতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একই অভিন্ন লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
এর আগে রবিবার সকালে সচিবালয়ে পৌঁছানোর পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার পাশাপাশি সবাইকে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।