খেলাধূলা ডেস্ক
লিওনেল মেসি গোল করেও ইন্টার মায়ামিকে জয় এনে দিতে পারেননি। ঘরের মাঠে টরন্টো এফসির কাছে ২-১ গোলে হেরেছে টাটা মার্টিনোর দল। সাম্প্রতিক সময়ে এটি মায়ামির চতুর্থ হার, যার ফলে দীর্ঘ এক মাস ধরে জয়হীন রয়েছে দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধে উভয় দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ছন্দপতন ঘটে মায়ামির রক্ষণভাগে। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে বিপদে পড়ে যায় তারা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে টরন্টো এফসির পক্ষে প্রথম গোল করেন ফরোয়ার্ড জশ সার্জেন্ট। এর ঠিক তিন মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার ডেরিক ইটিয়েন জুনিয়র। এই দুই গোলের ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মায়ামির আক্রমণভাগ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।
ম্যাচের শেষভাগে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালান লিওনেল মেসি। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে সতীর্থ রদ্রিগো দে পলের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে লক্ষ্যভেদ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এই গোলটি মায়ামিকে ম্যাচে ফেরার ক্ষীণ আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। নির্ধারিত সময় শেষে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে ইন্টার মায়ামির জন্য। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে এটি তাদের চতুর্থ পরাজয়। এর আগে লিগস কাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। গত সপ্তাহে ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা।
এই পরাজয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াইয়েও পিছিয়ে পড়েছে বর্তমান মেজর লিগ সকার (এমএলএস) কাপ চ্যাম্পিয়নরা। ইস্টার্ন কনফারেন্স ও সাপোর্টার্স শিল্ডের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখা ন্যাশভিলের চেয়ে মায়ামি এখন ১০ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে। যদিও পয়েন্ট টেবিলে দলটি এখনও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
চলমান মৌসুমের বাকি সময়গুলোতে প্লে-অফের প্রথম পর্বে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা নিশ্চিত করাই এখন ইন্টার মায়ামির প্রধান লক্ষ্য। তবে দলের ধারাবাহিকতার অভাব এবং জয়খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ কোচ ও খেলোয়াড়দের জন্য বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। আগামী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে শিরোপা ধরে রাখার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।