অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
গত বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ থেকে এসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সকল ধরনের কার্যক্রম এখন থেকে সরাসরি নতুন এই কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হবে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৩’-এর ধারা ৮-এর উপধারা (৫) অনুযায়ী এই নতুন সংস্থাটি গঠন করা হয়েছে।
নতুন এই সংস্থায় শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে প্রকাশিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নিয়োগ সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী এক বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের শর্তানুযায়ী, এই দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকা পূর্বের সকল কর্ম-সম্পর্ক পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে। তার নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত ও বিস্তারিত বিষয় পরবর্তীতে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
প্রধান নির্বাহী এই পদের পাশাপাশি নতুন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংহত করতে আরও দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সচিব পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল মোহম্মদ শাহারুল হুদা এবং অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার নাহিয়ান রহমান রচি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোড. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলো জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিনিয়োগ খাতের দীর্ঘদিনের প্রধান অন্তরায়গুলোর মধ্যে ছিল বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা। বিডা, বেজা এবংিপপিপিএ—এই তিন সংস্থাকে পৃথকভাবে পরিচালনা করায় বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হতেন এবং লাইসেন্স বা অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগত। নতুন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের ফলে বিনিয়োগকারীদের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস বা একভিড় সেবা প্রদান আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই একটি অংশ। এর ফলে শিল্প স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লট বরাদ্দ এবং বড় আকারের অবকাঠামোগত প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার কাজগুলো আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই তিন সংস্থার একীভূত কার্যক্রম কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তা বিনিয়োগকারীদের কতটা সুফল দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।