অপরাধ ডেস্ক
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক বিশেষ অভিযানে ৬ লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার আঞ্জুমানপাড়া ও ফাইসাখালী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত দিয়ে বড় ধরনের মাদকের চালান প্রবেশের খবর পায় বিজিবি। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বুধবার রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বালুখালী ও পালংখালী বিওপির সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ বিশেষ টহল দল আঞ্জুমানপাড়া ও ফাইসাখালী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে থার্মাল ইমেজিং ডিভাইসের সাহায্যে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সন্দেহভাজন দলকে মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা সঙ্গে থাকা পাঁচটি বড় বস্তা ফেলে দ্রুত মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ফেলে যাওয়া বস্তাগুলো উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলো খুলে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বায়ুরোধী প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় সর্বমোট ৬ লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
অভিযানের পর তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হলেও দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ এবং রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা ইয়াবার চালানটির সঙ্গে জড়িত মূল সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট চক্রকে শনাক্ত করতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত টহল এবং সমন্বিত নজরদারি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ভৌগোলিক সংবেদনশীলতার কারণে উখিয়া ও টেকনাফ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারিদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নাফ নদী এবং দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশে সিনথেটিক মাদক ও ইয়াবার বড় বড় চালান প্রবেশের চেষ্টা চালায় সংঘবদ্ধ চক্র। এই ধরণের অবৈধ তৎপরতা জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হিসেবে বিবেচিত। মাদক পাচার সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সীমান্তে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।