বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত ভোটকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি ও তফসিল অনুযায়ী বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচনী কর্তা হিসেবে ভোটগ্রহণ ও সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন। তাকে সার্বিক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা।
ভোটগ্রহণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদ ভবনে আইনপ্রণেতা ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ও প্রত্যক্ষ ব্যালট ভোটের মাধ্যমে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদের এই নির্বাচনের পটভূমি পর্যালোচনায় জানা যায়, গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য ঘোষিত হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী গত ৬ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করে।
ঘোষিত তফসিলে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই নির্বাচনকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি। নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সমন্বয়ে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভোট গণনা এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।