একটি মানবিক, সুখী, সমৃদ্ধ এবং আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে তিনি এই রাষ্ট্রভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ তৈরি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও জীবনমান নিশ্চিত করাই একটি টেকসই ও আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি।
বক্তব্যে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে নিজের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণই মূল লক্ষ্য, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ, নিশ্চিত ও সম্মানজনক পরিবেশে জীবন যাপন করতে পারবে। বিশেষ করে দিনমজুর, শ্রমজীবী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে মৌলিক চাহিদা পূরণে কোনো ধরনের বঞ্চনার শিকার না হয়, সে বিষয়টি রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশাল তরুণ সমাজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ, অর্থাৎ নারী সমাজের কার্যকর আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পথ উন্মুক্ত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ সুশাসন এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির মাধ্যমেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সম্মিলিত প্রয়াস ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে দেশকে কাক্সিক্ষত জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
এই রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি দেশের সর্বস্তরের জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন ও আস্থার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সরকার ও প্রশাসনের সার্বিক ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে গঠনমূলক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁর সাহসিকতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সান্নিধ্য তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সবসময় অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া দলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব এবং নীতি-নির্ধারকদের প্রতিও তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়া এই রাজনীতিবিদের অভিজ্ঞতা দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর ছাত্ররাজনীতির সূচনা হয়েছিল তৎকালীন বামপন্থী ধারার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাপের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং দলটির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জাতীয় সংসদের বর্তমান অধিবেশন কক্ষে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালিত হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই নির্বাচন ঘিরে সার্বিক রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংসদীয় রাজনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক তৎপরতা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।