অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) চলমান নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, চোরাই যানবাহন, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুজন ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থানায় মোট ৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী জানান, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম সমন্বিতভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর বিভাগে। মিরপুর বিভাগ এলাকা থেকে মোট ১২০ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়। এছাড়া গুলশান বিভাগ ৯৩ জন, ওয়ারী বিভাগ ৬৫ জন, উত্তরা বিভাগ ৬৩ জন, মতিঝিল বিভাগ ৪৭ জন, লালবাগ বিভাগ ৪৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৪১ জন এবং রমনা বিভাগ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ২৭ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ২৩১ পিস ইয়াবা ও ৫ গ্রাম হেরোইন। এছাড়া অপরাধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা দুটি সুইচ গিয়ার ছুরি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের এই অভিযানে অবৈধ বা চোরাই মালামাল উদ্ধারেও সাফল্য এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৯৭ দশমিক ৭৩ গ্রাম সাধারণ স্বর্ণালংকার এবং পৃথকভাবে আরও ৪ ভরি ১৫ আনা ৫ রতি চোরাই স্বর্ণালংকার। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ২ লাখ ৬৭ হাজার চোরাই টাকা এবং অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত বা চুরি যাওয়া ৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবহনসংক্রান্ত অপরাধ ও চোরাই যান উদ্ধারের অংশ হিসেবে একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি ট্রাক এবং ১৭টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। অভিযান চলাকালে অপরাধীদের কবল থেকে দুজন ভিকটিমকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট ধারায় মোট ৫৫টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীতে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস, মাদক নির্মূল এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই ধরনের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।