স্বাস্থ্য ডেস্ক
এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের নিরাপদে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা) দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রাজধানীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ডায়রিয়া ও কলেরা রোগের বিস্তার রোধে সরকারের নেওয়া বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভ্যাকসিনের প্রয়োগবিধি ও কার্যকারিতার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, এক বছরের বেশি বয়সী যেকোনো সুস্থ শিশুকে এই টিকা দেওয়া সম্ভব। এটি দুই ডোজের একটি টিকাদান কার্যক্রম, যেখানে প্রথম ডোজ গ্রহণের পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার মাঝে অন্তত ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহের ব্যবধান বজায় রাখতে হবে। এই ভ্যাকসিনের পূর্ণাঙ্গ কোর্স সম্পন্ন করলে একজন ব্যক্তি তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কলেরা ও তীব্র ডায়রিয়াজনিত জটিলতা থেকে সুরক্ষিত থাকবেন। তিনি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে উভয় ডোজ গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে হাম, ডেঙ্গুসহ একাধিক সংক্রামক রোগের চ্যালেঞ্জ একযোগে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিবিড় তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে রাজধানীতে মশার বংশবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে রোগ প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ ও বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট এবং দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে কলেরা ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে মৌসুমি পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এই বাস্তবতায় সরকারের বৃহৎ পরিসরে ৫০ লাখ মানুষকে ওরাল কলেরা টিকার আওতায় আনার পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড ও এলাকাগুলোতে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে অন্যান্য এলাকাতেও টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।