জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে এই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ পাঠ পরিচালনার বিষয়ে সৃষ্ট আইনি অস্পষ্টতা নিরসনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্পষ্ট মতামত প্রদানের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
এর আগে রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পাঠ করাবেন—সে বিষয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের স্বার্থে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের আইনি ব্যাখ্যা ও পরামর্শ চাওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহ বিশদ পর্যালোচনার পর আইন মন্ত্রণালয় জানায়, ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের শপথ পাঠ করানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সাংবিধানিক বা আইনগত বাধা নেই।
আইন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মতামতে সংবিধানের প্রাসঙ্গিক বিধানগুলোর উল্লেখ করা হয়। মতামতে বলা হয়, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুসারে বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এমতাবস্থায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ মোতাবেক স্পিকারের অনুপস্থিতি বা কার্যভার পালনে অসমর্থতার কারণে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ও ক্ষমতা ডেপুটি স্পিকারের ওপর বর্তায়।
আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যামতে, ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে স্পিকারের সকল দায়িত্ব পালন করায় তিনি কার্যত ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। ফলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর ক্ষেত্রে তিনি সাংবিধানিকভাবে যথাযথ এবং বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃত।
আইনি ব্যাখ্যা পাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় শপথ অনুষ্ঠানের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। বঙ্গভবনে আয়োজিতব্য এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি, বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ সম্পন্ন হবে।