তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক
দেশের বিপুলসংখ্যক ফিচার ফোন ব্যবহারকারীকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে সাশ্রয়ী মূল্যের ডেটা-নির্ভর স্মার্টফোন সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব স্মার্টফোনের দাম ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত ‘পাওয়ারিং দ্য ফিউচার: রবি কমপ্লিটস ঢাকা মডার্নাইজেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা জানান, দেশে বর্তমানে মোট সক্রিয় মোবাইল সংযোগ প্রায় ১৪ কোটি হলেও এর অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৭ কোটি গ্রাহক এখনো সনাতন পদ্ধতির ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির স্বার্থে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দ্রুত আধুনিক ডেটা নেটওয়ার্ক ও স্মার্ট ডিভাইসের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে স্মার্টফোনের উৎপাদন খরচ কমাতে সরকার ইতোমধ্যে নীতিগত সহায়তা জোরদার করেছে। বাজেটের পূর্বে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও স্থানীয় ফোন প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২৬ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কর, ভ্যাট ও শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে এবং কিছু উপাদানের ওপর মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ কর বহাল রাখা হয়েছে।
নীতিগত এই ছাড়ের কারণে স্থানীয় উৎপাদনকারীরা ৫০ থেকে ৬০ ডলার ব্যয়ের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক কার্যকর ডেটা স্মার্টফোন তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে প্রান্তিক গ্রাহকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইকুয়েটেড মান্থলি ইনস্টলমেন্ট (ইএমআই) কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সহজ কিস্তি সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টেলিযোগাযোগ খাতের সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রেহান আসিফ বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সেবা প্রদানকারী মোবাইল অপারেটর এবং হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারকদের যৌথ প্রচেষ্টা ছাড়া পুরো খাতের টেকসই রূপান্তর সম্ভব নয়। গত ছয় মাসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি অভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। উন্নত নেটওয়ার্ক কাঠামোর সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে নাগরিকদের হাতে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ডিজিটাল ডিভাইস থাকা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। এছাড়া রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা এবং প্রধান করপোরেট ও নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শাহেদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মোবাইল অপারেটর রবির পক্ষ থেকে তাদের ঢাকা নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, বৃহত্তর ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টিরও বেশি সাইটে সর্বাধুনিক ‘গিগা গ্রিন ৪জি/৫জি রেডি’ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ইনডোর কাভারেজ তিন গুণ বেড়েছে, নেটওয়ার্কের কল ড্রপ প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা বিভিন্ন ক্লাস্টারে উল্লেখযোগ্য হারে উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিকায়নের ফলে প্রতি গিগাবাইট ডেটা স্থানান্তরে বিদ্যুৎ খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানানো হয়।