নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সচিবালয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বুধবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাইকার বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে নারী শিক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীনসহ মন্ত্রণালয় ও জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বর্তমান পরিধি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রচলিত অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বিদেশি বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তার বিস্তার ঘটানো এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবামূলক খাতে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কেয়ারগিভার (সেবাপ্রদানকারী) তৈরি করতে পারলে দেশের অভ্যন্তরে মানসম্মত সেবার নিশ্চয়তা তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এ লক্ষ্যে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় জাইকার কারিগরি সহায়তা বিশেষভাবে প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, বিশেষত জাপানের বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদারে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের জীবনমান উন্নয়নে উপজেলা পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলেছে। এ ছাড়া নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে চলমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে একটি টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ পরিবারিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার পাশাপাশি নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সহায়তা করছে। এসব কার্যক্রমের গুণগত মান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাইকার অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত পরামর্শ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গৃহীত উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নারী ও শিশুদের কল্যাণ, প্রান্তিক মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবনমান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদে সম্পৃক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সামাজিক খাত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত ও আরও সুসংহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট নীতি ও প্রকল্পের আওতায় উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করে।