বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো সংসদীয় ভোটাভুটির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে নির্ধারিত স্থানে বা ভোটের দিন কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসব তথ্য জানান। সিইসি বলেন, দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতিতে এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ দেশবাসী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই নির্বাচন প্রত্যক্ষ করছে। সব অংশীজন ও রাজনৈতিক পক্ষের পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে তিনি একটি উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি ও নিয়মাবলি তুলে ধরে সিইসি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী সংসদ ভবন বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানকালে কোনো প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকরা কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচনের পবিত্রতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা যাতে শতভাগ কার্যকর থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই তৎকালীন ২২তম রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিলে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য ঘোষিত হয়। পরবর্তীতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে। এ নির্বাচনে প্রধান দুটি রাজনৈতিক বলয়ের পক্ষ থেকে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অলি আহমদ।
জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমেই দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় এই নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সার্বিক সমন্বয়ে নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ও আনুষঙ্গিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটদানের পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে সংসদ সদস্যরা সরাসরি ভোটপ্রদান ও ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন। স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং স্পিকারের ভোটদানের দৃশ্য বাংলাদেশ টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তবে সাধারণ সংসদ সদস্যদের ভোটদানের গোপনীয়তা বজায় রাখতে মধ্যবর্তী সময়ে সরাসরি সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণার পর্বটি পুনরায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়ার পরপরই সংসদ ভবনের বৈঠককক্ষে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন। ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নাম উল্লেখ করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন পর ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই আয়োজন দেশের শাসনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায়ের সূচনা করছে। আইনপ্রণেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।