অপরাধ ডেস্ক
ঢাকা মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদকদ্রব্য, ভেজাল পণ্য এবং চোরাই সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানে অপহৃত বা আটকে রাখা দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
বুধবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী অভিযানের সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন আটটি ক্রাইম বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা একযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অপরাধবিরোধী এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে।
ডিএমপির তথ্যমতে, আটটি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। মিরপুর বিভাগে এক দিনে ১৩২ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৮০ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৪৫ জন, গুলশান বিভাগে ৪০ জন, রমনা বিভাগে ৩৪ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১২০ কেজি গাঁজা, ১২ হাজার ৩৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, দুই পুরিয়া হেরোইন এবং পাঁচ লিটার দেশি মদ। এছাড়া বিশেষ অভিযানে ১১ হাজার ৪৮০টি নকল প্রসাধন সামগ্রী (ক্রিম), ৫২৬ বস্তা সরকারি বা চোরাই চাল, ১১টি মোবাইল ফোন, অপরাধে ব্যবহৃত দুটি চাকু, একটি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকার এবং একটি প্রাইভেটকারের রিমোট চাবি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশি তৎপরতায় দুই ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, রাজধানীতে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, প্রতারণা, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে নিয়মিত অংশ হিসেবেই এই সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মোট ৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পর তাদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো অপরাধমুক্ত রাখতে মহানগর পুলিশের নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এবং চোরাচালান প্রতিরোধে প্রতিটি বিভাগের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।