আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলার তক্ষশীলা শহরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের গুলিতে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শামসো বিবি (২৮) নিহত হয়েছেন। গত ১৪ আগস্ট দেশটির স্বাধীনতা দিবসের দিন একটি পেট্রোল পাম্পের অদূরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তার সঙ্গে থাকা বোন আসিমা গুরুতর আহত হন। তবে তার ভাই নিয়ামাতুল্লাহ অক্ষত রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে।
নিহত শামসো বিবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে তার ১৩ লাখেরও বেশি অনুসারী ছিল। পেশাগত জীবনে তিনি মূলত বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরি করতেন।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য ও প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন কাশিফ নামের এক ব্যক্তির টেলিফোন পেয়ে শামসো বিবি তার ভাই নিয়ামাতুল্লাহ ও বোন আসিমা সহকারে বাসা থেকে বের হন। তারা তক্ষশীলা এলাকার একটি নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি শামসো বিবির ঘাড়ের অংশে বিদ্ধ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় তার বোন আসিমাও গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহতের ভাই নিয়ামাতুল্লাহ ও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, কাউসার ও জাভেদ নামের দুই ব্যক্তির কাছে শামসো বিবির অর্থ পাওনা ছিল। সেই বকেয়া অর্থ দাবি করার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। পরিবারটির ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে ডেকে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী এবং তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্তের তৎপরতা চলছে। একই সঙ্গে যে ব্যক্তির ফোনে নিহত শামসো বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, সেই কাশিফ নামের ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করতেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশটিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশেষ করে সামাজিক রক্ষণশীলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রোশ ও পারিবারিক বিরোধের কারণে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের উপর হামলার ঘটনা আগেও ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তক্ষশীলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।