সিলেট — জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মিয়াকে (২৭) সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিনগত রাত পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার আইতন-সৈয়দাবাদ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, চুনারুঘাট থানা-পুলিশের একটি নিয়মিত ও বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে অভিযুক্ত রাসেল মিয়া সৈয়দাবাদ এলাকায় অবস্থান করছেন। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে আটক করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দায়ের করা একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলা ছাড়াও স্থানীয় থানায় একাধিক ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য অভিযোগ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাযথ পুলিশি প্রহরায় তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সহিংস কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এসব মামলার এজাহারে উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশের এই তৎপরতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চিহ্নিত অপরাধী এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।